মাধবপুর (হবিগঞ্জ), ১১ জুন : বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি শিল্পখাত উল্লেখ করে সায়হাম নিট কম্পোজিট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ শাফকাত আহমেদ বলেছেন, শিল্পখাতের টেকসই বিকাশ নিশ্চিত করতে জাতীয় বাজেটে আরও কার্যকর ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, তৈরি পোশাক, সুতা, বস্ত্র ও রপ্তানিমুখী শিল্প দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। একজন শিল্প উদ্যোক্তা হিসেবে তিনি শিল্পখাতের উন্নয়নে সরকারের আরও সহায়ক ভূমিকার প্রত্যাশা করেন।
সৈয়দ শাফকাত আহমেদ বলেন, বাংলাদেশে উৎপাদিত সুতা, কাপড়, তৈরি পোশাক ও অন্যান্য রপ্তানিমুখী পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে রপ্তানিকারকদের জন্য সহজ ও ব্যবসাবান্ধব নীতিমালা, কর-সুবিধা এবং প্রয়োজনীয় প্রণোদনা অব্যাহত রাখতে হবে। এতে দেশের রপ্তানি আয় বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি শিল্পখাত আরও শক্তিশালী হবে এবং জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তিনি আরও বলেন, বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতা ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াতে সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন।
শিল্পখাতের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, উৎপাদন অব্যাহত রাখতে কারখানাগুলোতে পর্যাপ্ত জ্বালানি নিশ্চিত করতে হবে। গ্যাস ও বিদ্যুতের ঘাটতির কারণে উৎপাদন ব্যাহত হলে সময়মতো রপ্তানি আদেশ সরবরাহ করা কঠিন হয়ে পড়ে। এতে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি বৈদেশিক ক্রেতাদের আস্থাও কমে যায়। তাই বাজেটে জ্বালানি খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে সহজ শর্ত ও দ্রুত সেবা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন সায়হাম নিট কম্পোজিট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তিনি বলেন, জটিল প্রক্রিয়া, উচ্চ ব্যয় ও বিভিন্ন প্রশাসনিক বাধার কারণে অনেক সময় শিল্প উদ্যোক্তারা সমস্যার সম্মুখীন হন। কাঁচামাল আমদানি সহজ করা গেলে উৎপাদন ব্যয় কমবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।
বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিদেশি ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীরা যাতে বাংলাদেশে এসে সহজে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন, সে জন্য বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। অবকাঠামোগত উন্নয়ন, প্রশাসনিক জটিলতা হ্রাস এবং নীতিগত স্থিতিশীলতা বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সৈয়দ শাফকাত আহমেদ বলেন, সরকার যদি শিল্পবান্ধব বাজেট প্রণয়ন করে এবং উৎপাদনমুখী খাতে উৎসাহ ও প্রণোদনা দেয়, তাহলে দেশে নতুন নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে। এর ফলে বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে, বেকারত্ব কমবে এবং মানুষের জীবনমান উন্নত হবে। পাশাপাশি রপ্তানি আয় বৃদ্ধি পাবে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী হবে এবং জাতীয় অর্থনীতি আরও গতিশীল হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের শিল্পখাতের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে শিল্প উদ্যোক্তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে এবং বাজেটে বাস্তবসম্মত সহায়তা দিতে হবে। শিল্পের উন্নয়ন মানেই দেশের উন্নয়ন। তাই সরকার এমন একটি শিল্পবান্ধব বাজেট উপহার দেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন, যা উৎপাদন, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও রপ্তানি বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করাবে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Suprobhat Michigan

রোকন উদ্দিন লস্কর :